মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

ময়মনসিংহের চর নিলক্ষিয়ায় ভূমির রেকর্ড গায়েব করে কোটি টাকা মূল্যের ভূমি আত্নসাতের চেস্টা

জুবায়ের খন্দকার, ময়মনসিংহ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭১৩ বার পঠিত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন সাহেব কাচারি বাজারে মৌজা-রাজগঞ্জ বানিজ্যিক এলাকায় সরকারের প্রায় ৩ একর ৪৭ শতাংশ জমি দখল করে পাকা-আধাপাকা দোকান ও প্রতিষ্ঠান বানিয়ে স্থানীয় ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে লক্ষাধিক টাকা ঘুষ প্রদাণ করে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে আসছে স্থানীয় ভূমি দস্যুরা। যার ফলে সরকারের কোষাগারে এক পয়সাও জমা হচ্ছেনা।

আভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে ভূমি দস্যুরা সরকারি রেকর্ড পত্রে কলমজাদা ও কিছু দাগের পাতা হাওয়া করে দিয়েছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকভাবে লিখিত অভিযোগ থাকলেও কোন ক অদৃশ্য কারনে এবং দূর্নীতিবাজ কতিপয় অসাধূ ভূমি কর্মকর্তা তা সরকারের আড়ালে রেখে ভূমি দস্যুদের সরকারি জমি ভোগ দখলের সুযোগ করে দিচ্ছে তারা। অথচ এই ভূমিই ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের নামে ভূমি রেকর্ড হয়েছে অথচ দখলে আছে শুধু ঠন-ঠনা-ঠন-ঠন। আর এই সংবাদটি অনুভূতি টিভির অনুসন্ধান টিমের নজরে উঠে আসে। অনুভূতি টিভির অনুসন্ধান টিমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায় যে- ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাহেব কাচারী বাজারে মৌজা-রাজগঞ্জ এর কতিপয় অসাধু কিছু সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরদের আশীর্বাদ পুষ্ট গজে উঠা নব্য ভূমি দস্যুদের অবৈধ দখলে সরকারি ভূমি নিজ নামে রাখার জন্য স্থানীয় ভূমি অফিসের অসাধু একাধিক কর্মচারী তাদেরকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। আবার এই অসাধু কর্মচারী দখলকৃত জমির মালিক ভূমি দস্যু আব্দুল মজিদের ঘরে বসেই প্রতি মাসের উপঢৌকন নিয়ে থাকেন। সরকারি জমি জবর দখল করে সেখানে অবৈধভাবে দোকানপাট বানিয়ে ভাড়াও আদায় করছেন অনেকে। ১নং খতিয়ানের ২শত দাগে ৬০ শতাংশ পুকুরে মাছ চাষ করেও বছরে প্রায় কয়েক লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছে এইসব গজে উঠা ভূমি দস্যু। আবার জানা গেছে যে, এইসব গজে উঠা নব্য ভূমি দস্যুরা জমিদার আমলের কিছু জালিয়াতি কাগজ পত্র তৈরী করেছে। যার ১নং খতিয়ানের ২০টি দাগে ৩ একর ৪৭ শতাংশ জমির সবটুকুই রয়েছে প্রশাসনের বেহাত। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় যে, অনেকেও এই জমির ভূয়া লীজ দলিলও বানিয়েছে। আবার দেখা গেছে যে, লীজের সকল শর্ত ভঙ্গও তারা করেছে। যার দরুন ভূমি দস্যুরা নিয়েছে চরম জালিয়াতির আশ্রয়। রেকর্ড পত্রের পাতা ছেড়া থেকে শরু করে দাগের রেকর্ডে কলমজাদা অভার রাইটিং সবই করেছে দূর্নীতিবাজ কতিপয় অসাধূ ভূমি কর্মকর্তার সাজসে নব্য গজে উঠা ভূমি দস্যু চক্রটি। তবে এই সকল অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে সরকারের কিছু অসৎচক্র। সরকারি অফিসের কোন এক চক্রের সহযোগিতায় ভূয়া এই সকল কাগজপত্র তৈরী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয়রা আরো জানান, ভূমি দস্যুর তালিকায় যার নাম প্রথম আসে তিনিই হচ্ছে আব্দুল মজিদ। আব্দুল মজিদ এতোটাই বিতর্কিত যে স্থানীয় মাজারের লাখ লাখ টাকাও আত্নসাৎ করেছেন তিনি। এসব ঘটনা জানার পরও কোন এক অদৃশ্য কারনে এখনো তিনি মাজারের ক্যাশিয়ারের পদে দায়িত্ব পালন করছেন বহাল তবিয়তে। আবার দেখা গেছে আব্দুল মজিদের টাকার দরকার হলেই মাজারের ক্যাশবাক্স খোলে টাকা তিনি নিজের মনে করে টাকা নিয়ে নেন। আর এসব সম্ভব হচ্ছে সরকারি কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজেসে। আর এরা এতোই প্রভাবশালী যে এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতেও সাহস করে উঠতে পারেনা। এই বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে গেলে প্রথমবার তিনি পরিচয় পর্ব করবার পর তিনি ফোন লাইনটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি তার ফোন লাইনটি ব্যস্ত করে রেখে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..