শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ইউপি সদস্যের কাছে জিম্মি বয়স্ক ও বিধবা ভাতার অসহায় কার্ডধারীরা

 জুবায়ের খন্দকার, ময়মনসিংহ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৯১৮ বার পঠিত

১ হাজার টাকা দিলে বয়ষ্ক ও বিধবা ভাতার তালিকায় নাম থাকবে নয়তো নাম কেটে দেয়ার হুমকি দিয়ে গ্রামের অসহায় দরিদ্র নারী ও পুরুষেরা অভাবের মধ্যেই ধারদেনা করে ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে টাকা দিয়ে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার নতুন তালিকায় নিজের নাম নিশ্চিত করতে ছুটছেন তারা। আর এই আলোচিত ইউপি সদস্যের নাম এন্টাস মিয়া। ক্ষমতার দাপটে বর্তমানে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা করে দেওয়ার নামে যেন মাটিতে পা পড়তে চায়না তার। এক অভিনব কায়দায় বয়স্ক ও বিধবা ভাতা করে দেওয়ার নাম করে গ্রামের সহজ সরল মানুষদের কাছ থেকে ইউপি সদস্য নাম এন্টাস মিয়া হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। প্রথমে তার কাজ হচ্ছে অনলাইনে আবেদন করে বয়ষ্ক ও বিধবা ভাতার তালিকাভুক্তির তালিকা দেখে ১হাজার করে টাকা আদায় করছেন এই ইউপি সদস্য। উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য মোঃ এন্টাস মিয়ার বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বয়স্ক বিধবা নারী ও পুরুষেরা। স্থানীয় গ্রামবাসী জানায় যে, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ধারাকান্দি গ্রামের মৃত- আলী আজগরের স্ত্রী রমিছা (৬৭) বলেন-বিধবা ভাতার কার্ড করার জন্য মেম্বার এন্টাস মিয়া তার কাছে ১ হাজার টাকা দাবী করেন। অভাবের তারনায় রমিছা সেই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার কার্ড বাতিল হয়ে গেছে বলে সাফ জানিয়ে দেয় মেম্বার এন্টাস মিয়া। এমন হাজারো রমিছা আছেন যারা সুদে ধার-দেনা করে সেই টাকা তুলে দিচ্ছেন মেম্বার এন্টাস মিয়ার হাতে। মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য এন্টাস মিয়ার সাথে কথা হয় অনুভূতি টিভির এই প্রতিবেদকের সাথে। শুরুতেই অভিযোগ অস্বীকার করে এন্টাস মিয়া বলেন-আমি কারো কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা নেইনি তবে বয়ষ্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেবার জন্য শুধু আইডি কার্ডের ফটো কপি রাখতেছি। এদিকে কথা হয় গৌরীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর ইসলাম আকন্দ (অ:দা)-এর সাথে। তিনি বলেন-অনলাইনে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলায় বয়ষ্ক ও বিধবা ভাতার প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। অন্তর্ভুক্তদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। অপরদিকে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ বলেন-কোন ইউপি সদস্য টাকা চেয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..