শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৩:০১ অপরাহ্ন

পলাশবাড়ীতে জমি তৈরিসহ চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো কৃষকরা।

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪২০ বার পঠিত

শীতের তীব্রতা একটুখানি কমে গেছে। এসুযোগে জমি তৈরির পাশাপাশি বোরো চাষীরা জমিতে চারা রোপন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। কৃষকেরা প্রত্যশিত ফসল পেতে সঠিক সময় ও তাল মিলিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন মাঠ পর্যায়ের প্রান্তিক চাষীরা। কৃষকরা বলছেন প্রাকৃতিক আবহাওয়া ছাড়াও অপ্রত্যাশিত কোন দুর্যোগ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক-ঠাক থাকলে সুষ্ঠুভাবে শতভাগ ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকায় এবার মোট ১২ হাজার ৬’শ ৪২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ৩’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। চারা রোপনের মূল লক্ষ্যমাত্রানুযায়ী প্রায় ৮’শ হেক্টর জমি বীজতলা করা হয়েছে। এ হিসেবে ১ হেক্টর জমির চারা দিয়ে ২০ হেক্টর জমিতে চারা রোপন সম্ভব হয় বলে কৃষি অফিস সূত্র জানায়।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানসহ মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা রাত শেষ হতে না হতেই কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বেলায় শীতের তীব্রতা শরীরে নিয়েই তারা বোরো মাঠের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। কৃষকদের কেউ কেউ আবার পরস্পর প্রতিযোগিতা মূলক যান্ত্রিক যান দিয়ে চাষবাসের পর রাসায়নিক সার ছিঁটানোর মাধ্যমে জমি প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করছেন। আবার অনেকেই শেষ পর্যায়ে চারা রোপনে লিপ্ত রয়েছেন। চারা রোপন পূর্ব স্ব-স্ব বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনের কাজে কৃষাণ-কৃষাণিরা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।কৃষকেরা তাদের নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়ে শীত উপেক্ষা করে শরীরে কাঁদা-পানি মাখিয়ে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভালোয় ভালোয় শেষ পর্যন্ত চারা রোপনের কাজ শেষ করতে।
উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউপি’র কাঁতুলী গ্রামের প্রান্তিক বোরো চাষী বেলাল হোসেন, বেতকাপার সাকোয়া গ্রামের সুজা মিয়া, বরিশাল ইউপি’র শাহ আলম, পৌর এলাকার গিরিধারীপুর গ্রামের ফজলু মিয়া, ইউনুস আলী, আমবাড়ী গ্রামের ফিরোজ ও বাঁশকাটা গ্রামের আফছার আলী ছাড়াও অন্যান্য ইউপি’র বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত বছর গুলোতে বোরো চাষে লাভ- লোকসানের হিসেব গুলিয়ে ফেলেছেন তারা।
বোরো মৌসুমে হাট-বাজার গুলোয় খুচরা ও পাইকারী কেনা-বেচায় উৎপাদিত ধানের উচিৎ মূল্য বিরাজমান ছিল। এ উপজেলার কৃষকেরা বিগত সময়ের ভাল-মন্দ উৎরিয়ে এবার নতুন চিন্তা-ভাবনায় ভবিষ্যতের আশায় খেয়ে না খেয়ে মাঠে নেমেছেন বোরো চাষে সফলতা পেতে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আজিজুল ইসলামের সাথে বোরো চাষের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বললে তিনি জানান এ উপজেলার তৃণমূল কৃষকেরা চলতি মৌসুমে তাদের প্রস্তুতকৃত জমিতে বোরো ধানের চারা লাগাতে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ দেখা না দিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সর্বসাকূল্যে বোরো রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন।
উপজেলায় বিসিআইসি অনুমোদিত ১১ জন সার ডিলার রয়েছেন।এসব ডিলারের বিপরীতে প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন করে রয়েছেন খুচরা সার বিক্রেতা ডিলার। এ মৌসুমে চাহিদার তুলনায় ইউরিয়াসহ সবধরনের রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কোথাও কোন সারের দাম বাড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তদারকি আরো বৃদ্ধি করেছেন। অপরদিকে; ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ বোরো চাষে কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে রবিশষ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষকরা একই মৌসুমে বিশেষ করে গম, ডাল, ভূট্টা ও সরিষা চাষে অধিক উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..