রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

এরই নাম মা” [গল্প হলেও সত্যি] – মুনমুন।

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২২
  • ৪৯ বার পঠিত

সেই সময় টা ছিল চৈএ মাস।

খাঁ খাঁ করছিল চারিদিক।
সেই ভর দুপুরে,সূর্য যেন নেমে এসেছিল মাথার উপর।
চৈএ মাসের ঐ সময় টাতে তখন
চৈতা ধান সবে সবে চাষিরা ঘরে তুলছে।
আর খড়ের গাধা গুলো সাধারনত তারা বাড়ির আশে পাশেই দিয়ে থাকে।
গ্রামে তখন নতুন ফসল ঘরে তোলার একটা বাস্তবতা চলছিলই।
এদিকে আবার সেই ভর দুপুরেও গ্রামের বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েরা খেলাধুলায় মত্ত ছিল ।সেই দিন নীরু আর তার বন্দুরা সবাই মিলে আম বাগানে খেলতে যায়।
প্রতিদিনের মতো সেদিনও সেখানে যায়।
তারা তাদের পুতুলের বিয়ে সেদিন তাই তারা ঠিক করেছিল, খিচুড়ি রান্না করবে।আর তার জন্য যা যা আনাজ পাতি
লাগবে সব নিয়ে হাজির হয়েছিল সেখানে।
তাদের বাড়ির পিছনের বাগানটি নিরুদের বাড়ির পিছনেই।
কেও এনেছিল চাল, কেও ডাল তো কেও আলু আর বাকিরা অন্যান্য আনাজ। যাই হোক তারা বেশ খুশিতেই ছিল সেই দিন।এক সঙ্গে বন্ধুরা মিলে খাওয়ার মজাটাই তো আলাদা তাদের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হল না।
গ্রামে সেই সময় একটা খারাপ অভ্যেস ছিল। উনুন জ্বালানোর জন্য অন্যের বাড়ী থেকে কাঠি করে আগুন নিয়ে আসা।
যদিও সব পরিবার নয়, তবে বেশ কিছু পরিবারই এটা করে থাকতো।নিরুও উনুন জ্বালানোর জন্য আগুন আনতে যায় কাঠি করে পাড়ারই একটি বাড়িতে। সেই ভর দুপুরেও গ্রামে অনেক পরিবারে রান্না চলতো।নিরু আগুন নিয়ে ফেরার পথে ঠিক একটি খড়ের গাদার কাছে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় ।তার হাতে থাকা আগুনের কাঠি গিয়ে পড়ে খড়ের গাদায়। এমনিতেই খরার দাপটে দুপুরটা আগুনে প্রায় জ্বলছিলই।তারপর আবার আগুনে পড়েছে আগুন!
তৎক্ষণাৎ দাউ দাউ করে আগুন দাবা নলের ন্যায় ছড়াতে লাগলো চারিদিকে, আশেপাশে থাকা বাড়ি গুলো থেকে লোকজন আতঙ্কে বেড়িয়ে এল।আগুন নেভানোর জন্য অনেকেই বালতি ভর্তি জল নিয়ে এসে ঢালতে শুরু করল। তখনও নিরুকে কেউ খেয়াল করে নি।জানবেই বা কি করে?এদিকে আগুনের মাঝে নিরু!
এরই মাঝে কেউ একজন চিৎকার করে বলে উঠল “নিরু”!!
নিরুর মাও সেখানে আগুন লেগেছে শুনে সেই সময় ছুটে এসেছিল।
নিরুর নাম তার কানে পৌঁছাতেই সে আগুনে ঝাঁপ দেয় নিজের জীবন সেখানে তুচ্ছ!। কেউ সাহস করে আগুনের মাঝে নিজের জীবন তুচ্ছ করে এগোতে পারেনি! কিন্তু মা তো তাই নিরু আগুনের কথা শুনতেই ঝাঁপ দেয় আগুনে নিজ জীবন তুচ্ছ করে! মা বলে উঠলো, “এই তো আমি চলে এসেছি নিরু! কিছু হবে না আমি তোকে বাঁচাবোই” এই বলে নিরুকে বুকে করে জড়িয়ে আগুন থেকে বের করে আনে।মায়ের শরীরে আগুন তখন দাউ দাউ করে জ্বলছে।মা নিরুকে কোন রকম কোল খেকে নামিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
নিরু ও তার মা অচৈতন্য অবস্থায়! এদিকে গ্রামের লোকজন যারা উপস্থিত ছিলেন তারা দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যাবস্থা করেন। দুই জনেরই চিকিৎসা শুরু হলো।কিন্তু ডাক্তার নিরুকে বাঁচাতে পারলেও তার মা কে বাঁচাতে পারলেন না।নিরুর মা চিকিৎসা চলাকালীনই মারা যান।মৃত্যুর আগে পযর্ন্ত নিরুর মায়ের কণ্ঠে একটাই ক্ষিণ শব্দ ভেসে আসছিল, ডাক্তার আমার নিরুকে বাঁচিয়ে দিন!!
এই তো মা!
এরই নামই হয়তো মা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 2 =

এ জাতীয় আরো খবর..