শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

অবশেষে আটক হলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ।

রওশন আরা পারভীন শিলা, নওগাঁ প্রতিনিধি।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ মে, ২০২১
  • ৩১৭ বার পঠিত

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার সোয়েব (42) এর ওপর অতর্কিত হামলায় 12জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আত্রাই উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগমকে হুকুমের (তার নির্দেশে)1নম্বর আসামী করা হয়েছে।

সোমবার (17 মে) আহতের স্ত্রী সাবরিনা সুলতানা বাদী হয়ে আত্রাই থানায় মামলা করেন।এর আগে (16 মে) সকালে উপজেলার নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আত্রাই সোনালী ব্যাংক ট্রেজারী শাখার সামনে সরদার সোয়েব এর ব্যবসায়ী অফিসে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগমের ক্যাডার বাহিনী মির্জা রাব্বীর হামলার অভিযোগ উঠে। রোববার সকালে ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম এর ছেলে তার ক্যাডার বাহিনী সহ সরদার সোয়েবএর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান (অফিসে)ডুকে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্ব জখম করে। তার আত্ন চিৎকারে বাজারের লোকজন ছুটে এসেতাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে আত্রাই হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়। আত্রাই হাসপাতালের কতব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসারজন্য রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জানা যায় সরদার সোয়েব প্রতিদিনের ন্যায় রোববার সকালে উপজেলা নিউমার্কেটে ঠিকাদারী কাজে তার ব্যক্তিগত অফিসে যায়। হঠাৎ মির্জা রাব্বী তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে সরদার সোয়েব এর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ফেলে রেখে চলে যায়। সোয়েরে শরীরের বেশ কিছু জায়গায় গুরুত্ব জখম হয়। দুই হাত ও পায়ের মাংস কেটে ঝুলে যায়। বাজারের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হামলার পর জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছিল। অবশেষে তাকে আটক দেখিয়ে মামলা হয়েছে। আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরদার সোয়েব এর সঙ্গে তাদের ব্যবসা নিয়ে আর্থিক লেনদেনের বিরোধ ছিল। এরই সূত্র ধরে তার ওপর হামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভাইস মহিলা চেয়ারম্যান মমতাজ বেগমকে থানায় নেয়া হয়েছে।আহতর স্ত্রী বাদী হয়ে মমতাজ এর নির্দেশে হামলা হয়েছে মর্মে তাকে সহ বারো জনকে আসামী করে মামলার পর সোমবার তাকে নওগাঁ আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।বাকী আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, 2014 সালে মমতাজ বেগম উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার ছেলে মির্জা রাব্বী সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলে। মা ও ছেলের বিরুদ্ধে চাকরী দেওয়ার প্রলোভনে অনেক অসহায় নীরিহ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মির্জা রাব্বীর বিরুদ্ধে ছিনতাই, সরকারী জায়গা দখলের পর স্থাপনা নির্মান করে বিক্রি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..