শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

অদম্য মেধাবী একমাত্র ছেলে লিমনের মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে দিনমজুর হতদরিদ্র পরিবার পড়েছেন মহা দুঃশ্চিন্তায়

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩২৪ বার পঠিত

 মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পলাশবাড়ী সরকারি ডিগ্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য মেধাবী লিমন সরকারের ভর্তি ফি সহ ভবিষ্যৎ পড়ালেখা নিয়ে মহা দুঃশ্চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দিনমজুর হতদরিদ্র পরিবার।

অনেক মানবিক মানুষই মানবসেবা করে যেতে চান। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা অনুকূলে না থাকায় তা অনেকেই আবার কূলে উঠতে পারেননা। পরস্পর সহযোগিতাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। লিমনের ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই-ই। মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের মধ্যে অন্যতম একটি পেশা চিকিৎসক হওয়া। তেমনটি প্রত্যাশা হতদরিদ্র লিমন সরকারেরও। ভর্তির সুযোগ পেয়ে খুশি হলেও চরম দৈন্যদশার আবর্তে তার প্রত্যাশা পূরণ হবে কি-না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধুম্রজালসহ নানা সংশয়। ইতোমধ্যেই মানবিক অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য বলে জানান পরিবারটি। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেও পারিবারিক সাধ্য না থাকায় পরিবারটি পড়েছেন মহাবিপাকে। শিশু বয়স থেকেই নানা অভাব অনটনের মধ্যদিয়ে পড়ালেখা করে আসার ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন লিমন। এর আগে সাদুল্লাপুরের লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণীতে জিপিএ-৫ পান। লক্ষ্মীপুর রহিমা খাতুন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি’তে জিপিএ-৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং একই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ (সাধারণ বৃত্তি) পেয়ে এসএসসি পাশ করে। এসময় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে বৃত্তি লাভ করেছিলেন লিমন। বরাবরই অদম্য মেধার সাক্ষর রেখেছেন লিমন। সেসময় লেখাপড়া বন্ধ হবার উপক্রম হলে এলাকার মানবিক-সহানুভূতিশীল দানশীল শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতায় পলাশবাড়ী সরকারি কলেজে ভর্তি হন লিমন। সেখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পান লিমন। সারাদেশের মেধাক্রম তালিকায় (নং-৬৩৮) ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারছেনা লিমন। ছেলের এমন সফলতায় দিনমজুর বাবা জাহিদুল ও গৃহিনী ইমিলি বেগম দম্পতি এবং কলেজ পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে শিমু আক্তার’ই খুশি নন। যারা এতদিন পরিবারটিকে নানাভাবে সহায়তা করে আসছিলেন তারাও বেজায় খুশি। উচ্ছ্বসিত হলেও হতাশার ছাপ মুখে নিয়ে লিমন তার প্রতিক্রিয়ায় চিকিৎসক হয়ে সে দেশ ও দশের সেবা করতে চান। বাবার পরিশ্রম-মায়ের যত্ন আর শিক্ষকদের সহযোগিতা তার লেখাপড়ার সাহস যুগিয়েছেন। আগামীর ডাক্তার লিমন বলেন লেখাপড়া কালীন একসঙ্গে কখনোই বই-খাতাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে পারেননি। একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটার একচিলতে ৮ শতাংশ জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। মা-বাবা আর দুই ভাই-বোন মিলে ছোট্ট টিনের কুঠিরে থাকেন তারা। দিনমজুর বাবার প্রতিদিন কাজের সংস্থান হয়না। যেদিন কাজ পান সেদিন ২’শ থেকে ৩’শ টাকা উপার্জন করেন। তা দিয়েই তাদের সবকিছু। যাদিয়ে সবার জন্য দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের সংস্থান হয়না। উপরন্তু পড়ালেখার ব্যয় যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। ছেলের ডাক্তারি ব্যয় যেন দুঃস্বপ্ন। ছেলে লিমন এবং মেয়ে শিমু’র ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া বাবা জাহিদুল জানান অর্থাভাবে তিনি নিজে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি। এজন্য কষ্ট করে হলেও তার অন্তরের অনুশোচনা থেকেই পরিবারের ব্যয় ছাড়াও ছেলে-মেয়ের ব্যয়বহুল লেখাপড়া চালিয়ে এসেছেন। চলমান দুর্মূল্যের এসময় সাধ থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় শত চেষ্টা করেও একদিকে পারিবারিক ব্যয় তৎসহ সন্তানদের লেখাপড়ায় বিশাল ব্যয়ের ঘানি আর যেন টানতে পারছেননা। ফলে পরিবারটি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে স্থানীয়ভাবে সহানুভূতিশীল অনেকেই অনেকটা সাহস যুগিয়েছেন। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্তপল্লীর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মেধাবী সন্তান লিমন। প্রায় ১০/১২ কি.মি. দূর থেকে খেয়ে না খেয়ে কখনো পায়ে হেঁটে আবার কখনো বাইসাইকেল হাঁকিয়ে কষ্ট করে পলাশবাড়ী কলেজে লেখাপড়া চালিয়ে এসেছেন। বাবা-মাযের আর্তি তারা স্বপ্ন দেখেন ছেলে আমাদের ডাক্তার হবে। কিন্তু সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় কি-না এ চিন্তা যেন মাথা থেকে সড়ছেনা। ভর্তি ফি সহ আগামী ৫ বছর পড়াশুনার অগাধ ব্যয়। এসব দুঃশ্চিন্তা আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরেছে পরিবারটিকে। নির্ঘুম রাত কাটছে অসহায় পরিবারটির। গর্বিত অনুভব করলেও অভাবগ্রস্থ পরিবারটির মেধাবী সন্তান লিমনের ডাক্তারী পড়া নিশ্চিত করতে পরিবারটি এলাকার এমপি, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী ছাড়াও সমাজের সর্বস্তরের দানশীল বিত্তশালী মানবিক মানুষদের নিকট আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন। (সহায়তা পাঠাবার ঠিকানা: মোবাইল-লিমন বিকাশ: ০১৭৭৬-৮০২৪৯৭, ডাচ্-বাংলা ০১৭৭৬-৮০২৪৯৭-৮)।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..